Tuesday 04 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া নদী-খাল রক্ষা সম্ভব নয়: পানিসম্পদমন্ত্রী

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
২৯ জুলাই ২০২৬ ১৭:০৫ | আপডেট: ২৯ জুলাই ২০২৬ ১৯:০০

ডিসিসিআই সেমিনারে বক্তব্য রাখছেন পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি – ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা: পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, খাল-নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ও সংযোগ (কানেক্টিভিটি) ঠিক না থাকলে দেশের পরিবেশ, পানি ব্যবস্থাপনা ও অর্থনীতি মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়বে। তাই খাল পুনঃখনন, নদী রক্ষা এবং পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনায় সব মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

বুধবার (২৯ জুলাই) রাজধানীর ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত ‘বাংলাদেশে বৃত্তাকার নৌ-পথের পুনরুজ্জীবন এবং অভ্যন্তরীণ নৌ-বাণিজ্যের সম্প্রসারণে খাল খনন কর্মসূচির ভূমিকা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বিজ্ঞাপন

মন্ত্রী বলেন, মানুষের শরীরে যেমন রক্ত চলাচলের জন্য রক্তনালী অপরিহার্য, তেমনি দেশের খালগুলোও প্রকৃতির রক্তনালী। একটি খালের সঙ্গে আরেকটি খাল ও নদীর সংযোগ ঠিক রাখতে না পারলে পানি প্রবাহ ব্যাহত হবে এবং এর প্রভাব পড়বে কৃষি, পরিবেশ, নৌ-পরিবহন ও নগরজীবনে।

তিনি বলেন, বর্তমানে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার মডেলিং (আইডব্লিউএম), সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্টাল অ্যান্ড জিওগ্রাফিক ইনফরমেশন সার্ভিসেস (সিইজিআইএস) এবং ওয়ারপো (WARPO)–এর মতো বিশেষজ্ঞ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা ও গবেষণার ভিত্তিতে পরিকল্পনা গ্রহণ করছে। অতীতে যেভাবে বিচ্ছিন্নভাবে কাজ হয়েছে, এখন সেই ধারা পরিবর্তন করে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পরই প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় ভূমি, কৃষি, স্থানীয় সরকার, নৌপরিবহন, পরিবেশ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে নিয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক করেন। তিনি জানান, খাল খনন কর্মসূচি নিয়ে আগে এ ধরনের সমন্বিত বৈঠক হয়নি। ফলে বিভিন্ন সংস্থা আলাদাভাবে কাজ করায় প্রত্যাশিত ফল পাওয়া যায়নি।

ঢাকার চারপাশের নদীগুলোর দূষণ ও দখল প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বুড়িগঙ্গা, শীতলক্ষ্যা, তুরাগ, বালু ও টঙ্গী নদীর বর্তমান অবস্থা সবার চোখের সামনেই। শিল্পবর্জ্য, দখল, অপরিকল্পিত নগরায়ণ এবং দূষণের কারণে নদীগুলো মারাত্মক সংকটে পড়েছে। এ সমস্যা শুধু একটি মন্ত্রণালয়ের নয়; এটি পুরো সরকার ও জনগণের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ঢাকা ঘিরে নদীগুলোকে দূষণমুক্ত করা, নদীপাড়ে ওয়াকওয়ে নির্মাণ এবং জলপথে ওয়াটার ট্যাক্সি চালুর কথা বলা হলেও বাস্তবে এখনো সেই লক্ষ্য অর্জিত হয়নি। অথচ প্রতিবেশী দেশের অনেক শহরে নদীকেন্দ্রিক পরিকল্পিত উন্নয়ন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও পর্যটনে বড় ভূমিকা রাখছে।

ভূগর্ভস্থ পানির স্তর দ্রুত নিচে নেমে যাওয়াকে উদ্বেগজনক উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, উপরের পানির উৎস রক্ষা করতে না পারলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ বড় ধরনের সংকটে পড়বে। তিনি নিজের উপকূলীয় এলাকার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, একসময় যেখানে ৭০০ থেকে ৮০০ ফুট গভীরেও সুপেয় পানি পাওয়া যায়নি, সেখানে বিশেষজ্ঞরা বহু আগেই সতর্ক করেছিলেন যে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে উপকূলীয় অঞ্চল সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে পড়বে।

তিনি বলেন, আগামী ৫০ বছর বা ১০০ বছরের কথা মাথায় রেখে এখন থেকেই পরিকল্পনা নিতে হবে। তা না হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ পানি ও বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়বে।

সরকারের পরিকল্পনার প্রসঙ্গ টেনে পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার আগেই নির্বাচনী ইশতেহারে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল পুনঃখনন, ব্যাপক বৃক্ষরোপণসহ পরিবেশ ও পানি ব্যবস্থাপনা উন্নয়নের নানা পরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন খাতের বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছেন।

তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য শুধু খাল খনন নয়; নদী, খাল, জলাধার ও পরিবেশ সংরক্ষণের মাধ্যমে একটি টেকসই পানি ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা। এজন্য সরকারি প্রতিষ্ঠান, বিশেষজ্ঞ, ব্যবসায়ী সমাজ ও সাধারণ মানুষের সমন্বিত অংশগ্রহণ প্রয়োজন।

সেমিনারে ব্যবসায়ী প্রতিনিধি, পরিবেশবিদ, নগর পরিকল্পনাবিদ, পানি বিশেষজ্ঞ এবং বিভিন্ন সরকারি সংস্থার কর্মকর্তারা অংশ নেন। তারা নদী-খাল পুনরুদ্ধার, দূষণ নিয়ন্ত্রণ, নৌপথ সম্প্রসারণ এবং সমন্বিত পানি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর