ঢাকা: বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের পাশাপাশি শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, কৃষি ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণে সহযোগিতা জোরদারে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বর্তমানে প্রায় ৫ দশমিক ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার সুসান রাইল।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে বৈঠকে এসব বিষয়ে আলোচনা করেন অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার। বৈঠকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খান উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে হাইকমিশনার জানান, অস্ট্রেলিয়ার একটি ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল শিগগিরই বাংলাদেশ সফরের পরিকল্পনা করছে। এ সফর দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আলোচনায় শিক্ষা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, কৃষি, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও ব্যবসায়িক বিনিয়োগে সহযোগিতার নতুন সম্ভাবনার কথা উঠে আসে। একই সঙ্গে বাংলাদেশে অস্ট্রেলিয়া থেকে উচ্চমানের গরুর মাংস রফতানির সম্ভাবনাও নিয়ে আলোচনা হয়। এ ক্ষেত্রে হালাল সনদ, পশুর গতিবিধি ও উৎপত্তি শনাক্তকরণ এবং আধুনিক পশুপালন ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে সহযোগিতার বিষয়টি গুরুত্ব পায়।
বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) আইন ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আলোচনায় সরকারি কর্মকর্তাদের দক্ষতা বাড়াতে দীর্ঘমেয়াদি ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি নেওয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার। এ লক্ষ্যে একটি গবেষণা ও স্টাডি সেন্টার প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা ভবিষ্যতে আঞ্চলিক পর্যায়ে জ্ঞান ও দক্ষতা বিনিময়ের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি আরও জানান, উন্নয়ন প্রকল্পের সফল বাস্তবায়নে প্রকল্প পরিচালকদের দক্ষতা গুরুত্বপূর্ণ। এ জন্য তাদের সক্ষমতা বাড়াতে বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
জবাবে সুসান রাইল বলেন, এ ধরনের দীর্ঘমেয়াদি সক্ষমতা উন্নয়ন কর্মসূচিতে সহযোগিতা করতে অস্ট্রেলিয়া আগ্রহী। বাণিজ্য আলোচনা, আন্তর্জাতিক চুক্তির আইনি বিষয় ও নীতিনির্ধারণী দক্ষতা উন্নয়নে ধারাবাহিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা চলছে।
এ ছাড়া বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) মর্যাদা থেকে উত্তরণের পর বাণিজ্য সুবিধা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ব্যবস্থায় বাংলাদেশের অবস্থান এবং ভবিষ্যৎ বাজারে প্রবেশাধিকারের বিষয়েও আলোচনা হয়। দুই পক্ষই এসব বিষয়ে নিয়মিত সংলাপ অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দেয়।