রিজিওনাল কম্প্রেহেনসিভ ইকনমিক পার্টনারশিপ (আরসিইপি) সদস্যপদ লাভ, স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণে অতিরিক্ত তিন বছর সময় এবং নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) করতে দেশটির সক্রিয় সমর্থন চেয়েছে বাংলাদেশ।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) নিউজিল্যান্ডের পররাষ্ট্র ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের (এমএফএটি) সদর দফতর ওয়েলিংটনে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এসব প্রস্তাব তুলে ধরা হয়। বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খান। নিউজিল্যান্ডের পক্ষে নেতৃত্ব দেন ট্রেড নেগোসিয়েশনস অ্যান্ড পলিসি ডিভিশনের ডিভিশনাল ম্যানেজার সারা মেম্যান্ড ও ইউনিট ম্যানেজার জোনাস হোল্যান্ড।
বৈঠকে বাংলাদেশ জানায়, আরসিইপি সদস্যপদের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশ্নাবলির বিস্তারিত জবাব এরই মধ্যে জমা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে উচ্চমানের বাণিজ্য শৃঙ্খলার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শুল্কনীতি, টেলিযোগাযোগ, আর্থিক সেবা, লজিস্টিকস, প্রতিযোগিতা, মেধাস্বত্ব ও ডেটা সুরক্ষায় বিভিন্ন সংস্কার এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
এলডিসি উত্তরণ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ২০২৬ সালের পরিবর্তে ২০২৯ সালের নভেম্বর পর্যন্ত উত্তরণকাল বাড়ানোর আবেদনের পক্ষে নিউজিল্যান্ডের সমর্থন চায়। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত, জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধি ও বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতির পাশাপাশি বাংলাদেশের চলমান আর্থ-সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের বিষয়টি তুলে ধরা হয়।
এ ছাড়া দুই দেশের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ এফটিএ নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরুর প্রস্তাব দেওয়া হয়। এফটিএ হলে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক, ওষুধ, চামড়াজাত পণ্য ও তথ্যপ্রযুক্তি খাত এবং নিউজিল্যান্ডের দুগ্ধজাত পণ্য, কৃষি যন্ত্রপাতি ও ধাতব পণ্যের বাজার সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হবে।
বৈঠকে বার্ষিক দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য নীতি পরামর্শক গ্রুপ, এফটিএ আলোচনার জন্য জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ এবং এলডিসি উত্তরণে সমর্থন আদায়ে দুই দেশের স্থায়ী মিশনের মধ্যে কূটনৈতিক সমন্বয় জোরদারের প্রস্তাবও দেওয়া হয়।