ঢাকা: বাংলাদেশের আসন্ন ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সার্বিক রাজনৈতিক অঙ্গনে এক অভূতপূর্ব ও উৎসবমুখর আবহের সৃষ্টি হয়েছে। আগামী ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই নির্বাচনকে ‘ঐতিহাসিক’ হিসেবে অভিহিত করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও প্রধান নির্বাচনি কর্তা এ এম এম নাসির উদ্দিন জানিয়েছেন, বাংলাদেশ ছাড়িয়ে বিশ্ববাসী এখন গভীর আগ্রহ নিয়ে এই নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে আছে।
বুধবার (১৯ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে সিইসি বলেন, গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং মেয়াদের মাঝপথে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের কারণে এই ভোটকে ঘিরে সবার মাঝে প্রবল কৌতূহলের সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হলে জনমনে হয়তো এত আগ্রহ বা সংবাদের প্রাধান্য থাকত না, কিন্তু বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এটি এখন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু।
১৯৯১ সালের পর প্রথম প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ইতিহাস স্মরণ করিয়ে সিইসি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে ১৯৯১ সালে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ভোটের মাধ্যমে সর্বশেষ রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন। এরপর থেকে এখন পর্যন্ত অন্যান্য রাষ্ট্রপতির নির্বাচন প্রায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বা একক প্রার্থী মনোনয়নের মাধ্যমেই সম্পন্ন হয়ে এসেছে। ১৯৯১ সালের পর দীর্ঘ সময় একাধিক প্রার্থীর অংশগ্রহণে এমন উন্মুক্ত প্রতিযোগিতা না হওয়ায় প্রাতিষ্ঠানিক ও সংসদীয় পর্যায়ে ভোট পরিচালনার ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতার কিছুটা ঘাটতি বা ‘ইনস্টিটিউশনাল মেমোরি’র কমতি রয়েছে। তবে নির্বাচন কমিশন ও সংসদ সচিবালয়ের যৌথ উদ্যোগে সকল প্রয়োজনীয় মহড়া ও প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে, যাতে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের ত্রুটি বা ফাঁকফোকর না থাকে।
আইনগত প্রক্রিয়া ও নির্বাচনি সময়সূচি
১৯৯১ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন ও বিধিমালা অনুসরণ করে এবারের নির্বাচন পরিচালিত হচ্ছে। সিইসি স্পষ্ট করেন, সংসদ সেশন না থাকা অবস্থায় এই নির্বাচনের জন্য নিয়মিত অধিবেশন ডাকার প্রয়োজন নেই; কেবল আইন অনুযায়ী নির্বাচনি বৈঠক আহ্বান করলেই চলে। গত ১১ আগস্ট সংক্রান্ত বৈঠকের গেজেট প্রকাশ করে ইসি। তফসিল অনুযায়ী ১৩ আগস্ট মনোনয়নপত্র জমা, ১৬ আগস্ট তা যাচাই-বাছাই এবং ১৮ আগস্ট ছিল প্রত্যাহারের শেষ দিন।
প্রার্থী ও ভোটার সংখ্যা
নির্বাচনে মোট ৩টি মনোনয়নপত্র বৈধ হিসেবে গৃহীত হয়েছিল। বিএনপির পক্ষে জমা পড়া ১টি এবং ১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে জমা পড়া ২টি মনোনয়নের মধ্যে মূল লড়াইয়ে বহাল আছেন দুজন হেভিওয়েট প্রার্থী, বিএনপি’র মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ১১ দলীয় ঐক্য (লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি – এলডিপি’র ড. অলি আহমদ (বীর বিক্রম)।
সংসদের বিভক্তি নম্বর অনুযায়ী চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রণয়ন করা হয়েছে। চট্টগ্রাম-৪ আসনের নির্বাচন স্থগিত থাকার কারণে ১টি আসন শূন্য থাকায় এবারের নির্বাচনে মোট ভোটারের সংখ্যা দাঁড়াবে ৩৪৯ জন। স্পিকার, প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেতা, চিফ হুইপসহ দেশের সকল সংসদ সদস্য এই নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।
ভোটগ্রহণ ও সরাসরি সম্প্রচার
আগামী ২০ আগস্ট দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদ ভবনের ভেতরের কক্ষে গোপন ব্যালটের মাধ্যমে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। পুরো প্রক্রিয়ায় সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের ভোটদান অনুষ্ঠান বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) মাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। বিকেল ৫টায় ভোট গ্রহণ শেষ হওয়ার পরপরই সরাসরি সম্প্রচারের মধ্য দিয়ে ব্যালট গণনা শুরু হবে। গণনা শেষে ব্যবহৃত ও অব্যবহৃত ব্যালটের হিসাব মিলিয়ে বিজয়ী প্রার্থীর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করবেন নির্বাচনি কর্তা এবং পরবর্তীতে সরকারি গেজেট প্রকাশ করা হবে।