নেপালে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের পর উদ্ধার অভিযান কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে নেপাল। বৈরী আবহাওয়ার কারণে শনিবার (২৯ আগস্ট) উদ্ধার অভিযান বন্ধ রাখার পাশাপাশি ধ্বংসস্তূপের পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিদেশি বিশেষজ্ঞ ও কারিগরি সহায়তা চেয়েছে দেশটি। সংবাদসংস্থা রয়টার্সের বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।
বুধবার (২৬ আগস্ট) হিমবাহ ধসে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় নেপালের বিস্তীর্ণ এলাকায় পাথর, বরফ, কাদা ও ধ্বংসাবশেষের স্রোত নেমে আসে। এতে ভবন, সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্র ভেসে যায়। নেপালে অন্তত ৬২৬ জন এবং চীনের তিব্বতে সাতজন নিহত হয়েছেন। এখনো প্রায় ৩ হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। এর মধ্যে নেপালে ২ হাজার ৪২৬ জন এবং তিব্বতের গিয়েরং কাউন্টিতে অন্তত ৫৫৮ জন নিখোঁজ। নিখোঁজদের মধ্যে অন্তত ৫৪০ জন বিদেশি নাগরিক, যাদের অনেকেই ভারতের হিন্দু তীর্থযাত্রী।
ধ্বংসযজ্ঞের পর পুনর্গঠনে নেপালের প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ কোটি ডলার প্রয়োজন হতে পারে বলে জানিয়েছেন দেশটির অর্থমন্ত্রী স্বর্ণিম ওয়াগলে। তবে নেপাল সাধারণ উদ্ধার সহায়তার পরিবর্তে বিশেষায়িত কারিগরি সহযোগিতা চেয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল জানান, টানেলে আটকে থাকা মানুষদের উদ্ধার, ধ্বংস হওয়া সেতুর কারণে বিচ্ছিন্ন যোগাযোগ ও পরিবহন ব্যবস্থা পুনরুদ্ধার, মরদেহ শনাক্তকরণ, ডিএনএ পরীক্ষা এবং দীর্ঘ সময় মরদেহ সংরক্ষণের ক্ষেত্রে নেপালের বিশেষজ্ঞ সহায়তা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, এসব ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও কারিগরি জ্ঞান নেপালের পর্যাপ্ত নেই। তাই ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর কাছে বিশেষায়িত সেবা ও কারিগরি সহায়তার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
বন্যার পর নেপাল-চীন সীমান্তে তৈরি হওয়া একটি হ্রদ নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। হ্রদটির পানি উপচে নেপালের লেন্দে খোলা ও ত্রিশূলী নদীতে প্রবাহিত হওয়ায় শুক্রবারও (২৮ আগস্ট) সাময়িকভাবে উদ্ধার অভিযান বন্ধ রাখতে হয়েছিল। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হ্রদ দুটি পুরোপুরি খালি না হওয়া পর্যন্ত বন্যার ঝুঁকি অব্যাহত থাকতে পারে।
চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়া জানিয়েছে, ওই এলাকার একটি হিমবাহজাত হ্রদের পানি কমছে। তবে চীনের একজন ভূ-দুর্যোগ বিশেষজ্ঞ সতর্ক করে বলেছেন, হ্রদটি এখনো অস্থিতিশীল হতে পারে। একই এলাকায় ছড়িয়ে থাকা আরও শতাধিক হিমবাহজাত হ্রদও নতুন ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।