ঢাকা: দেশের কওমি শিক্ষা ব্যবস্থার সার্বিক সমন্বয় ও গুণগত মানোন্নয়নে মোট ৬টি কওমি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড গঠনের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়েছে।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদ অধিবেশনের প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস্যদের লিখিত প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী এই সিদ্ধান্ত ও প্রক্রিয়ার বিস্তারিত তথ্য সংসদকে অবহিত করেন। বিকেল সাড়ে ৩টায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের এই অধিবেশন আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। কুমিল্লার আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীর উত্থাপিত প্রশ্নের জবাব প্রদানকালে কওমি শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার ও সরকারি স্বীকৃতির নতুন পরিধি তুলে ধরা হয়।
সংসদীয় অধিবেশনে বক্তব্য প্রদানকালে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের সকল কওমি মাদরাসার সুষ্ঠু পাঠদান, শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা এবং যৌথ পাবলিক পরীক্ষা গ্রহণের সুবিধার্থে স্থায়ী প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে পূর্বের আইনগত কাঠামোর অধীনে ‘আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামি’আতিল কওমিয়া বাংলাদেশ’-এর তত্ত্বাবধানে দাওরায়ে হাদিস বা তাকমীল সনদকে মাস্টার্স ডিগ্রির সমমান প্রদান নিশ্চিত করা হয়েছে। এই ধারায় কওমি ধারার সুনির্দিষ্ট ৬টি স্বতন্ত্র শিক্ষা বোর্ড গঠনের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত অনুমোদনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
ঘোষিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী স্বীকৃত বোর্ডগুলো হলো বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ, বেফাকুল মাদারিসিল কওমিয়া গওহরডাঙ্গা বাংলাদেশ, আঞ্জুমানে ইত্তেহাদুল মাদারিস বাংলাদেশ, আযাদ দ্বীনি এদারায়ে তালীম বাংলাদেশ, তানযীমুল মাদারিসিদ দ্বীনিয়া বাংলাদেশ এবং জাতীয় দ্বীনি মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড বাংলাদেশ। প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে আরও বলেন, কওমি শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন শিক্ষার্থীদের মূলধারার কর্মসংস্থানে যুক্ত করতে সরকার ইতিমধ্যে নীতিগত সংস্কার সম্পন্ন করেছে।
শিক্ষকদের পদায়ন ও সরকারি সুযোগ-সুবিধার পরিধি নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নতুন সংশোধিত নীতিমালার আলোকে সহকারী মৌলভী ও ইবতেদায়ী ক্বারী পদে কওমি সনদের স্বীকৃতি যুক্ত করা হয়েছে। দাওরায়ে হাদিস ডিগ্রির পাশাপাশি ইলমে কিরাআত ও হিফজুল কোরআন সনদধারী দক্ষ শিক্ষার্থীরা এখন থেকে সরাসরি সংশ্লিষ্ট পদগুলোতে আবেদনের নতুন সুযোগ পাবেন। এই বৈপ্লবিক সিদ্ধান্তের ফলে দেশের হাজার হাজার কওমি শিক্ষার্থী প্রাতিষ্ঠানিক মর্যাদা ও চাকরির সুযোগ লাভ করবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।