Thursday 03 September 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

দুদককে আবারও বিরোধীদল দমনের হাতিয়ার করার অপচেষ্টা চলছে: এনসিপি

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১১:৩০ | আপডেট: ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৪:৩৬

ঢাকা: দুর্নীতি দমন কমিশনকে দীর্ঘ সাত মাস কমিশনারবিহীন ও অকার্যকর রাখার পর সম্প্রতি যে নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে, তাকে সম্পূর্ণ অস্বচ্ছ, দলীয় স্বার্থপ্রসূত এবং অগ্রহণযোগ্য বলে অভিযোগ করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দলটির আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম ও সদস্য সচিব আখতার হোসেন এক যৌথ বিবৃতিতে এই অভিযোগ তুলেন।

বিবৃতিতে তারা বলেন, আইন ও সংবিধান বিশেষজ্ঞদের মতানুযায়ী আপিল বিভাগের একজন সাবেক বিচারপতিকে কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া সংবিধানের ৯৯ অনুচ্ছেদের প্রত্যক্ষ লঙ্ঘন। একই সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকার প্রণীত দুদক অধ্যাদেশ বাতিল করে সংস্থাটিকে আবারও ফ্যাসিবাদী আমলের মতো সরকারি দলের আজ্ঞাবহ কমিশনে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে, যা গণঅভ্যুত্থানের মূল চেতনা এবং জুলাই সনদে বর্ণিত স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির নীতিকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে পুনরায় একপেশে ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে সম্পন্ন করা একটি পদক্ষেপ।

বিজ্ঞাপন

বিবৃতিতে তারা আরও বলেন, গত সাত মাসে ক্ষমতাসীন দলের বিভিন্ন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও তাদের পরিবারের বিরুদ্ধে প্রভাব খাটিয়ে সরকারি কাজ হাসিল এবং জনগণের অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠলেও সেসব নগ্ন দুর্নীতি ও স্বার্থের সংঘাতের খবরের বিরুদ্ধে দুদক সম্পূর্ণ নীরব ভূমিকা পালন করছে। দুর্নীতির প্রতি কমিশনের এই অন্ধত্ব প্রমাণ করে যে এটি শুরুতেই অসংবিধানিকতার প্রশ্ন ও স্বচ্ছতাহীনতার কালিমা নিয়ে গঠিত হয়েছে, যার ফলে এই বিতর্কিত কমিশনের কোনো ধরনের নৈতিক ও আইনি বৈধতা থাকতে পারে না। যখনই বিরোধী দলসমূহ জনগণের মৌলিক অধিকার আদায় ও গণরায় অনুযায়ী রাষ্ট্র সংস্কারের দাবিতে রাজপথে নামছে, ঠিক তখনই নিজেদের অপকর্ম ঢাকতে এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমাতে দুদককে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার পুরোনো অপকৌশল শুরু হয়েছে বলে তারা মন্তব্য করেন।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম নেতা এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধানের খবরের বিষয়টি উল্লেখ করে তারা বলেন, অনুসন্ধানের শুরুতেই দুদকের মুখপাত্র গণমাধ্যমের সামনে প্রাথমিক তদন্তে দুর্নীতির সত্যতা পাওয়ার দাবি করেন, অথচ এর পরপরই বার্তা পাঠিয়ে আবার ওই শব্দ ব্যবহার না করার অনুরোধ জানান। সংবাদ সম্মেলনে প্রকাশ্যে অসত্য তথ্য দেওয়ার পর গোপনে তা সংশোধনের অপচেষ্টার মাধ্যমে সংস্থাটি তার ন্যূনতম বিশ্বাসযোগ্যতা ও নিরপেক্ষতা হারিয়েছে। যেই কমিশন তদন্ত শুরুর আগেই মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ায়, তার অধীনে কোনো অভিযোগের স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত অসম্ভব বলে তারা উল্লেখ করেন।

নেতারা আরও বলেন, অসংবিধানিক ও বিতর্কিত প্রক্রিয়ায় গঠিত এই নিয়োগ অনতিবিলম্বে বাতিল করতে হবে এবং জুলাই সনদে উল্লিখিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী একটি নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও যোগ্য ব্যক্তিদের সমন্বয়ে স্বাধীন দুর্নীতি দমন কমিশন গঠন করতে হবে। দুদককে বিরোধীদল দমন কমিশনে পরিণত করার অপচেষ্টা বন্ধ করে সরকারের ভেতরে থাকা দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তারা। অনতিবিলম্বে এই অসংবিধানিক নিয়োগ বাতিল করে স্বাধীন প্রশাসনিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা না হলে এনসিপি দেশের আপামর জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথে তীব্র প্রতিরোধ আন্দোলন গড়ে তুলবে বলে তারা সতর্ক করেন।

সারাবাংলা/এফএন/এনজে
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর