ঢাকা: জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মাধ্যমে ৮৪৩ জনের (মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে প্রাপ্ত) প্রাণের বিনিময়ে পতন ঘটে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার। আর ওইদিন-ই তিনি পালিয়ে আশ্রয় নেন ভারতে। পরবর্তী সময়ে এই দিনটিকে, অর্থাৎ ৫ আগস্টকে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ ঘোষণা করে সরকার।
তবে আওয়ামী লীগ (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা দিনটিকে ‘পুলিশ হত্যা দিবস’ আখ্যা দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালিয়ে আসছে। এবার তাতে সুর মিলিয়ে ৫ আগস্টকে ‘পুলিশ হত্যা দিবস’ দাবি করে তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করলেন ভাটারা থানার পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) আব্দুল্লাহ আল মামুন।
বুধবার (৫ আগস্ট) বিকেল ৪টায় ফেসবুকে তার ব্যক্তিগত আইডিতে ‘৫ আগস্ট পুলিশ হত্যা দিবস’-এর একটি ফটোকার্ড শেয়ার দিয়ে মাগফিরাত করেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।
এর সূত্র ধরে সারাবাংলার পক্ষ থেকে ওই পুলিশ কর্মকর্তার কাছে জানতে চাওয়া হয়- ৫ আগস্টকে সরকার বা পুলিশ সদর দফতর থেকে ‘পুলিশ হত্যা দিবস’ ঘোষণা করা হয়েছে কি না? এর জবাবে ওই পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) বলেন, ‘সরকার বা পুলিশ সদর দফতর এমন কোনো ঘোষণা করা হয়নি।’
তাহলে সরকারি কর্মকর্তা হয়ে ৫ আগস্টকে ‘পুলিশ হত্যা দিবস’ দাবি করতে পারেন কি না?- এমন প্রশ্নের জবাবে আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘এটা আমি আমার দৃষ্টিকোণ থেকে দেখতেছি। আমার সহকর্মীরা হত্যার শিকার হয়েছে- সেখানে থেকে আমি দিবস…আমরা ওই দিনটাকে দেখতেছি। আমি ৫ আগস্টকে দিবস ঘোষণা করতে পারি না এবং করিনি।’
ফটোকার্ডে আপনি মোটা দাগে ‘পুলিশ হত্যা দিবস’ লিখে পোস্ট করলেন কেন?- এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ফটোকার্ড যেটা দিয়েছি সেখানে অনেক কিছু লেখা থাকতে পারে। আমি ফটোকার্ড তৈরি করিনি। ফটোকার্ড ছাড়া যেটা লিখেছি সেটা দেখুন। ফটোকার্ড ফেসবুকে ঘুরতেছে সেখান থেকে আমি সংগ্রহ করেছি।’
এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) নিয়াজ মেহেদী সারাবাংলাকে বলেন, ‘পুলিশ বা সরকারের পক্ষ থেকে এমন কিছু ঘোষণা করা হয়নি। আমাদের কর্তৃপক্ষ আছে, কমিশনার আছেন- এ রকম কোনো তথ্য থাকলে তারা ব্যবস্থা নেবেন।’
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১৫ জুলাই থেকে ৫ অগাস্ট পর্যন্ত সময়ের মধ্যে বিক্ষোভ ও বিক্ষোভ পরবর্তী সহিংসতায় ৮৪৩ জন নিহত হয়েছে বলে তালিকা প্রকাশ করে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়। অন্যদিকে, জাতিসংঘের রিপোর্টে নিহতের সংখ্যা ১৪০০ জনের কথা জানানো হয়েছে। আর এই নিহতদের মধ্যে ১২ থেকে ১৩ শতাংশই ছিল শিশু। এ ছাড়া আহত হন আরও অসংখ্য সাধারণ মানুষ। নিহতদের বেশিরভাগের মৃত্যু নিরাপত্তা বাহিনীর ব্যবহৃত প্রাণঘাতী অস্ত্র, সামরিক রাইফেল এবং শটগানের গুলিতে হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে জানানো হয়।