Monday 07 September 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

ফের হামলা হলে ‘আরও বেদনাদায়ক’ পরিণতির হুঁশিয়ারি ইরানের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০:২১ | আপডেট: ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৩:২৫

ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। ফাইল ছবি।

ইরানের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, আরও হামলার শিকার হলে এবার ‘আরও বেদনাদায়ক’ জবাব দেওয়া হবে। অন্যদিকে, মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের অর্থনীতিতে যে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে তা মোকাবেলায় ইরান আরও জোরালো করবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয় ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ নতুন হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, ‘বেশি দেরি হয়ে যাওয়ার আগেই যুক্তরাষ্ট্রের বোঝা উচিত যে খেলার নিয়ম বদলে গেছে।’

বিজ্ঞাপন

নিজের টেলিগ্রাম চ্যানেলে প্রকাশিত এক ভাষণে তিনি বলেন, ‘এখন থেকে ইরানের স্বার্থ ও নিরাপত্তার ওপর যেকোনো হামলার দ্রুততর, কঠোরতর এবং আরও বেদনাদায়ক জবাব দেওয়া হবে।’

রোববার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মোহসেন রেজাই বলেছেন, কয়েক দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালির বাইরে একটি নতুন ‘নিয়ন্ত্রিত অঞ্চল’ ঘোষণা করবে ইরান।

তিনি আরও বলেন, এই অঞ্চলের মধ্যে পারস্য উপসাগরের বিভিন্ন এলাকা অন্তর্ভুক্ত থাকবে। প্রাথমিকভাবে এই পরিকল্পনা সম্পর্কে খুব কম তথ্য দেওয়া হয়েছে। তবে রেজাই বলেছেন, নতুন এই অঞ্চলে প্রবেশকারী যেকোনো জাহাজকে নিষেধাজ্ঞার তালিকায় যুক্ত করা হবে।

এছাড়া, ওমানের সঙ্গে একটি নতুন শিপিং রুট ঘোষণা করার কথাও জানিয়েছেন তিনি।

ইরানের ওপর মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার মাধ্যমে যুদ্ধ শুরু হওয়ার ছয় মাস পর, এই সংঘাত এখন একটি অচলাবস্থায় এসে দাঁড়িয়েছে বলে মনে হচ্ছে। জুনে হওয়া একটি প্রাথমিক যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভেস্তে গেছে এবং শান্তি প্রক্রিয়াকে পুনরায় চালু করার কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় সামান্যই অগ্রগতি হয়েছে।

প্রায় এক মাস যাবত সামরিক অভিযান বন্ধ থাকার পর পালটাপালটি হামলা আবার শুরু হয়েছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর দুটি মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। তারপর শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্র তিনটি ইরানি ট্যাংকারে হামলা চালায়।

তেহরান দেখিয়েছে যে, প্রতিবেশী দেশগুলোতে মার্কিন স্বার্থে হামলা চালানোর এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়ার সক্ষমতা তাদের এখনও রয়েছে। এই প্রণালি দিয়েই সংঘাতের আগে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের এক-পঞ্চমাংশ প্রবাহিত হতো।

নিষেধাজ্ঞা ও তেল অবরোধ অর্থনীতিকে চাপে ফেলছে

তবে, ইরানের তেল রফতানির ওপর অবরোধ এবং নিষেধাজ্ঞা এড়ানো বন্ধ করার মাধ্যমে দেশটির অর্থনীতিকে করে দেওয়ার মার্কিন কৌশল ক্রমশ কঠিন হয়ে পড়ছে বলে তিনজন ঊর্ধ্বতন ইরানি সূত্র জানিয়েছে।

আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থার তাসনিম এর বরাত দিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী মোরতেজা জামানিয়ান বলেছেন, যুদ্ধজনিত সমস্যা সমাধানে মন্ত্রণালয়ের ‘অর্থনৈতিক যুদ্ধ সদর দফতর’ তাদের কাজ আরও জোরদার করছে।

রোববার তার ভাষণে গালিবাফ আরও বলেন, ‘সামরিক ফ্রন্টের পাশাপাশি ইরানের প্রধান লড়াই এখন উৎপাদন এবং জনগণের জীবন-জীবিকা নিয়ে।’

তিনি তীব্র মুদ্রার ওঠানামা, মুদ্রাস্ফীতি, বেকারত্ব এবং বাজার ব্যবস্থাপনাকে প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ‘ইরানিরা কষ্ট সহ্য করতে পারে কিন্তু অব্যবস্থাপনা বা নিষ্ক্রিয়তা নয়। তারা সরকারের কাছ থেকে দ্রুত পদক্ষেপের প্রত্যাশা করে।’

রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, ইরানের অর্থনীতি মন্ত্রী আলী মাদানিজেদেহ বলেছেন, ‘তেহরান মার্কিন অর্থনৈতিক চাপের জবাব সংস্কারের মাধ্যমে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে।’ এবং নিষেধাজ্ঞা দেশটিকে তার নীতি পরিবর্তনে বাধ্য করবে—এই ধারণা তিনি প্রত্যাখ্যান করেছেন।

মাদানিজেদেহ বলেন, ‘তারা অর্থনৈতিক চাপ ও বিচ্ছিন্নতার কথা বলে, আর্থিক সম্পর্ক ছিন্ন করার কথা বলে এবং তারা মনে করে যে একটি দেশের অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করে তারা সেখানকার জনগণের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে পারবে। আমাকে একটি বিষয় স্পষ্ট করতে হবে, ইরানের অর্থনীতি সংস্কারের দায়িত্ব তার সরকার ও জনগণের, মার্কিন ট্রেজারির নয়।’

বিজ্ঞাপন

রাজকীয় স্বাদের ছানার কোপ্তা কারি
৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৬:৫৪

আরো

সম্পর্কিত খবর