ঢাকা: বাংলাদেশ ব্যাংক কৃষি ও পল্লী ঋণ বিতরণে গতি বাড়াতে এবং বার্ষিক ঋণ লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে ‘বাংলাদেশ ব্যাংক অ্যাগ্রিকালচারাল ডেভেলপমেন্ট কমন ফান্ড (বিবিজেডিএফ)’ পরিচালনায় নতুন নীতিমালা জারি করেছে।
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, যেসব ব্যাংক কৃষি ও পল্লী ঋণ বিতরণের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারবে না, তাদের অনর্জিত অংশের অর্থ কেটে নিয়ে এই তহবিলে জমা করা হবে।
বুধবার (১ জুলাই)বাংলাদেশ ব্যাংকের কৃষি ঋণ বিভাগ-১ থেকে এ–সংক্রান্ত একটি সার্কুলার লেটার জারি করেছে।
সার্কুলারে বলা হয়েছে, কোনো ব্যাংক অর্থবছর শেষে কৃষি ও পল্লী ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থ হলে ৩০ জুন ভিত্তিক হিসাব অনুযায়ী অনর্জিত অংশ তিন মাসের মধ্যে বিবিজেডিএফে জমা দিতে হবে। একই সঙ্গে কৃষি ও পল্লী ঋণের গুণগত মান পর্যালোচনায় অগ্রহণযোগ্য হিসেবে চিহ্নিত অর্থও এই তহবিলে স্থানান্তর করা হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, তহবিলে জমা হওয়া অর্থ ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে সর্বোচ্চ ১৮ মাসের জন্য ৪ শতাংশ সুদে কৃষি ও পল্লী ঋণ বিতরণে আগ্রহী ব্যাংকগুলোর মধ্যে বরাদ্দ দেওয়া হবে। তবে অর্থ জমা হওয়ার পর প্রথম ৩০ কার্যদিবস পর্যন্ত কোনো সুদ দেওয়া হবে না। মেয়াদ শেষে মূল অর্থ ও অর্জিত সুদ সাত কার্যদিবসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে ফেরত দেওয়া হবে।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, এই তহবিল থেকে পাওয়া অর্থ কেবল নিজস্ব শাখা নেটওয়ার্কের মাধ্যমে কৃষি ও পল্লী ঋণ হিসেবে বিতরণ করা যাবে। একজন গ্রাহক সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ পাবেন। এ অর্থ বার্ষিক কৃষি ঋণ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের হিসাবেও অন্তর্ভুক্ত করা যাবে। পাশাপাশি ব্যাংকগুলোকে তহবিলের আওতায় বিতরণ করা ঋণের বিপরীতে ১ শতাংশ সমপরিমাণ অর্থ দিয়ে ‘রিস্ক মিটিগেশন ফান্ড’ গঠন এবং একই পরিমাণ অর্থ সাধারণ সংরক্ষণ (জেনারেল রিজার্ভ) হিসেবে সংরক্ষণ করতে হবে।
সার্কুলারে আরও বলা হয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তহবিলের অর্থ ফেরত না দিলে বাংলাদেশ ব্যাংক সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের চলতি হিসাব থেকে অর্থ সমন্বয় করতে পারবে। এছাড়া তহবিল ব্যবস্থাপনা, অর্থ বরাদ্দ ও বাস্তবায়নসংক্রান্ত যেকোনো নীতিগত বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হবে। নতুন নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর হয়েছে।