Saturday 25 July 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

সেপ্টেম্বরে ভারত সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

অপূর্ব কুমার, ডিপ্লোম্যাটিক করেসপন্ডেন্ট
২৫ জুলাই ২০২৬ ১৮:১৯ | আপডেট: ২৫ জুলাই ২০২৬ ১৮:৩৯

ঢাকা: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী সেপ্টেম্বরে ভারত সফরে যাচ্ছেন। ভারতে অনুষ্ঠিতব্য ব্রিকস সম্মেলনের আয়োজক দেশ ভারতের আমন্ত্রণে সম্মেলনে যোগ দিতে দেশটিতে সফরে যাবেন আশাবাদ ছড়িয়ে পড়েছে কূটনীতিক পাড়ায়। তবে ঠিক কবে কখন তিনি ভারতে যাবেন- সেটি নির্ভর করছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ওপর। কারণ আয়োজক দেশ ভারত আমন্ত্রণ জানালেও এখন নিশ্চিত নয় সফরটি সম্পর্কে। তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রথম নীতিকে ধারণ করা বদলে যাওয়া পররাষ্ট্র নীতিতে ভারত সফরের মতো গুরুত্ব বিষয়টি পুরোটা নির্ভর করছে খোদ প্রধানমন্ত্রীর ওপর।

গত বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শ্যামা ওয়াবেদ ইলসাম সাংবাদিকদের বলেন, আগামী সেপ্টেম্বর মাসে ভারতে অনুষ্ঠিতব্য ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রীকে আয়োজক ভারত আমন্ত্রণ জানিয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালেয়র মাধ্যমে পাঠানো সেই চিঠি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বিজ্ঞাপন

আগামী ১২-১৩ সেপ্টেম্বর ভারতের নয়াদিল্লিতে ব্রিকসের ১৮তম সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। এই সম্মেলনে সভাপতিত্ব করবে ব্রাজিল। আর এতে অংশ নিতে ভারত সফর করবেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিং পিংয়ের মতো বিশ্ব নেতারা। এই সম্মেলনে অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ পেয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। ব্রিকস (BRICS)-এর বর্তমান পূর্ণ সদস্য দেশ ১০টি। দেশগুলো হলো— ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন, দক্ষিণ আফ্রিকা, মিশর, ইথিওপিয়া, ইরান, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং ইন্দোনেশিয়া।

প্রসঙ্গত, আগামী জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন ২০২৬ সালের ৮ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে শুরু হবে এবং উচ্চ-পর্যায়ের সাধারণ বিতর্ক শুরু হবে ২২ সেপ্টেম্বর। এই অধিবেশনে বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে যাচ্ছে। দ্বিতীয় বারের মতো এই অধিবেশনে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সভাপতিত্ব করবেন। এই সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সফর নিশ্চিত।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সফরকালে প্রধানমন্ত্রী সাধারণ অধিবেশনের সাইড লাইনে একাধিক গুরুত্ব রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানের সঙ্গে দ্বি-পাক্ষিক বৈঠক করবেন বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে। এর বাইরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সৌদি আরব সফরের প্রস্তুতিও চলছে।

এর আগে চলতি মাসে ৬ তারিখে সৌদি আরবের যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান আল সৌদ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সে দেশে সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। ঢাকায় নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত আবদুল্লাহ জাফর এইচ বিন আবিয়াহ সচিবালয়ে এক বৈঠকে এই আমন্ত্রণপত্র হস্তান্তর করেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ও সৌদি আরব সফরের বিষয়ে জোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে সেটিও এখন নিশ্চিত নয় ঠিক কবে ও কখন প্রধানমন্ত্রী সৌদি আরব সফরে যাচ্ছেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সেপ্টেম্বর মাসে প্রধানমন্ত্রীর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং সৌদি আরব সফর নিয়ে কাজ চলছে সেখানে ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ এসে পৌছেছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ভারতের আমন্ত্রণটি প্রধানমন্ত্রীর দফতরে পাঠিয়ে দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী দফতরের চূড়ান্ত অনুমোদনের পর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কাজ শুরু করবে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে ভারতের পক্ষ থেকে আমন্ত্রণ এলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধানমন্ত্রী। কারণ ভারতের সফরটি একদিকে খুবই স্পর্শকাতর পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ভারতের সঙ্গে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে দ্বি-পাক্ষিক সম্পর্কে বেশ টানাপোড়েন চলছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে সম্পর্ক বেশ নাজুক পর্যায়ে চলে আসে। বিশেষ করে ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিভিন্ন বক্তব্য গণমাধ্যমে প্রচার এবং বাংলাদেশে অশান্তির সৃষ্টির অভিযোগ আনে বাংলাদেশে। বাংলাদেশের অভিযো্‌গ ভারত কার্যত শেখ হাসিনাকে ফেরত এবং তাকে নিস্ক্রিয় করতে ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করেনি। শেখ হাসিনাকে ফেরতের বিষয়টি আইন প্রক্রিয়া বলে এড়িয়ে গেছে। এছাড়া সাম্প্রতিককালে বাংলাদেশ সীমান্তের পুশইনের চেষ্টা অব্যাহত রাখা এবং নয়াদিল্লি বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডা: জাহেদুর রহমান-কে হেনস্তা করার মতো ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় বাংলাদেশ সরকারও কিছুটা মনক্ষুণ্ণ হয়।

প্রষঙ্গত, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্ক সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌছেছিল বলে দুই দেশেই একাধিকবার দাবি করেছিল। তবে ২০২৪ সালে জুলাই অভ্যুত্থানের পর শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে ভারতে অবস্থান নেন। তখন ভারতের বিরুদ্ধে শেখ হাসিনাকে দীর্ঘদিন অবৈধভাবে ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখার অভিযোগ করে বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলো। বিশেষ করে তৎকালীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে সম্পর্ক একেবারে তলানিতে নামে।

তবে গত বছর সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোক জানাতে বাংলাদেশের আসেন ভারতের স্পীকার ওম বিড়লা, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এবং পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশরি। তখন তারেক রহমানের কাছে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর শোক জানিয়ে লেখা চিঠি হস্তান্তর করেন এস জয়শঙ্কর। তখনই দুই দেশের সম্পর্ককে এগিয়ে নেওয়ার বার্তা দেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। ২০২৬ সালের নির্বাচনে বিপুল ভোটে বিজয়ের পর সরকার গঠনের পর নরেন্দ্র মোদী তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা জানিয়ে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানান। তারেক রহমান অভিনন্দন জানানোর জন্য নরেন্দ্র মোদীকে ধন্যবাদ জানান।

বিগত সময়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর প্রথম বিদেশ সফর প্রতিবেশী ভারত দিয়ে শুরু হতো। কিন্তু এবারে প্রধানমন্ত্রী ভারতের আমন্ত্রণ পেয়েও ইন্দোনেশিয়া এবং চীন দিয়ে প্রথম বিদেশ সফর শুরু করেন। বাংলাদেশ প্রথম নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পররাষ্ট্রনীতিকে ঢেলে সাজানোর অংশ হিসেবে নিয়ে তিনি সফর শুরু করেন। এর মধ্যে নতুন করে প্রধানমন্ত্রীর ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে ভারত সফরের আমন্ত্রণ এসেছে। এখন সেপ্টেম্বরের ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যোগ দেবেন কিনা সেটি এখন দেখার বিষয়। এটির পুরোটাই নির্ভর করছে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের ওপর।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক সিনিয়র কূটনীতিক বলেন, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বেশ কিছু দ্বি-পাক্ষিক ইস্যু রয়েছে। বিশেষ করে গঙ্গা পানি চুক্তির, তিস্তার পানির নায্য হিস্যা, শেখ হাসিনার প্রত্যার্বতনসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। যেসব সমস্যার সমাধান অবশ্যই আলোচনার মাধ্যমে হওয়া উচিত। কারণ নিকটতম দুই প্রতিবেশীর মধ্য নানা ইস্যুতে আলাপ-আলোচনা অব্যাহত থাকা দরকার। আলোচনার জন্যও সফর গুরুত্বপূর্ণ। আশা করছি দ্রতই দুই দেশের সস্পর্কের ররফ গলতে শুরু করবে।