Saturday 15 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

রংপুরে অ্যানথ্রাক্স / ৮০ পয়সার সরকারি টিকা দিতে হচ্ছে ৫০-৬০ টাকায়!

রাব্বী হাসান সবুজ ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
৯ অক্টোবর ২০২৫ ০৯:৩১ | আপডেট: ৯ অক্টোবর ২০২৫ ১২:২৫

সরকার নামমাত্র মূল্যে সরবরাহ করে থাকে অ্যানথ্রাক্সের টিকা। ছবি কোলাজ: সারাবাংলা

রংপুর: রংপুরে অ্যানথ্রাক্স বা তড়কা রোগ শনাক্তের পর আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে জেলার বেশিরভাগ জায়গায়। এতে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন স্থানীয় খামারিরা। এদিকে মাঠ পর্যায়ের প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে টিকা বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। খামারিদের দাবি, সরকার নির্ধারিত মাত্র ৮০ পয়সার টিকা পেতে দিতে হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা। আর এর মধ্য দিয়ে কয়েক লাখ গবাদিপশুর টিকা কার্যক্রমে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে। একদিকে রোগের ভয়ে আতঙ্কিত খামারিরা, অন্যদিকে স্বল্পমূল্যের টিকায়ও এমন বাণিজ্য— এই দুই মিলে ক্ষোভের জন্ম হচ্ছে রংপুরের খামারিদের মাঝে।

জানা গেছে, পীরগাছা উপজেলায় অ্যানথ্রাক্সের উপসর্গ নিয়ে দু’জনের মৃত্যু এই রোগের আতঙ্ক আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে একজনের মৃত্যুর খবরও এসেছে। সাম্প্রতিক তথ্যানুসারে, রংপুর জেলায় মোট ১৭ জন নিশ্চিতভাবে অ্যানথ্রাক্স আক্রান্ত হয়েছেন, যাদের মধ্যে পীরগাছায়-ই ১৩ জন। এই রোগ ছড়িয়ে পড়ায় খামারিরা উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় দিন পার করছেন।

বিজ্ঞাপন

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মাঠকর্মীদের অনুপস্থিতির কারণে দেশের বিভিন্ন এলাকায় গবাদিপশু প্রাথমিক পরীক্ষা না করেই জবাই হয়ে যায়। এরকম ঘটনা ঘটে রংপুরেও। ফলে না জেনে অনেকেই আক্রান্ত পশুর মাংস খেয়ে অসুস্থ হন। যাদের মধ্যে অনেকের শরীরে অ্যানথ্রাক্স শনাক্ত হয়েছে। এ ঘটনার পর জরুরি বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, সব গবাদিপশুকে দ্রুত টিকা দেওয়া হবে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী টিকা কার্যক্রমও শুরু হয়। কিন্তু এর পর থেকেই শুরু হয়েছে অভিযোগ— সরকারি টিকায় খামারিরা বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত টাকা দিচ্ছেন।

শহীদবাগ ইউনিয়নের খামারি মামুনুর রশীদ সারাবাংলাকে জানান, তার চারটা গরু আর দুটো ছাগলকে টিকা দিয়ে প্রাণিসম্পদের লোক প্রতি পশুর জন্য ৫০ টাকা করে নিয়েছেন। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন,‘ রোগের ভয়ে বাধ্য হয়ে টিকা দিয়েছি। কিন্তু এটা কি ন্যায়?’ তার কথায় সেই হতাশা ফুটে উঠেছে। যা ছোট খামারিদের মতো অনেকেরই মনে ক্ষোভেরও জন্ম দিয়েছে।

আরেক খামারি আব্দুস সালাম সারাবাংলাকে বলেন, ‘সরকার বলছে টিকা ফ্রি। কিন্তু, মাঠে গেলে টাকা চায়। না দিলে অজুহাত দেখিয়ে টিকা দেয় না। প্রথমে টাকা না দেওয়ায় টিকা দেননি। পরে ৫০ টাকা করে দেওয়ায় টিকা দিয়ে গেছেন।’ ছোট খামারি রহিম উদ্দিন সারাবাংলাকে বলেন, ‘আমরা ছোট খামারি। গরু বাঁচাতে টিকা দরকার। তাই বাধ্য হয়ে টাকা দিচ্ছি। কিন্তু এটা অন্যায়।’

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, সরকারি টিকার মূল্য ৮০ পয়সা হলেও পরিবহণ ও আনুষঙ্গিক খরচ হিসেবে সর্বোচ্চ ১০ টাকা পর্যন্ত নেওয়ার অনুমতি রয়েছে। তবে ৩০-৬০ টাকা নেওয়া স্পষ্টত অনিয়ম। এটা কেউ করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কাউনিয়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন সারাবাংলাকে বলেন, ‘আমার কাছেও অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার অভিযোগ এসেছে। সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করা হয়েছে। তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মহিদুল হক সারাবাংলাকে জানান, পীরগাছা, মিঠাপুকুর ও কাউনিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ায় জরুরি টিকা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। অনিয়মের অভিযোগ সম্পর্কে আগে জানতাম না। কিন্তু, এখন তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রংপুর বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের পরিচালক আব্দুল হাই সারাবাংলােক বলেন, ‘ভ্যাকসিনের সরকারি মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। প্রমাণ পেলে অনিয়মে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

তিনি জানান, উপজেলা প্রশাসন ও প্রাণিসম্পদ অধিদফতরসহ সরকারি উদ্যোগে টিকাদানের পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়ানোর কাজ চলছে। হাটবাজারে সামাজিক সচেতনতা বাড়াতে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনও সহযোগিতা করছে।

সারাবাংলা/আরএইচএস/পিটিএম
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর